June 21, 2026, 6:37 am

বিজ্ঞপ্তি :::
Welcome To Our Website...
শিরোনাম ::
মোগলাবাজার থানায় নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ১ মাস ফাইলচাপা এসএমপি কমিশনার বরাবরে আবেদনের খবর পেয়ে সাথে সাথে আইও বদল নির্মল সমীরণে আমাদের একদিন চঞ্চল মাহমুদ ফুলর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাব, সিলেট’র নতুন সদস্য হতে আগ্রহীদের ফরম সংগ্রহের আহবান যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবুল মিয়ার দেশে ফেরার আনন্দে মিলনমেলা কদমতলী ওভার ব্রিজ: প্রতিদিনের ভোগান্তি, সময়ের অপচয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ফুটপাত ভাড়া দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে অসাধু একটি চক্র কলম, সেবা আর দায়িত্বের আরেক নাম – ছাদিকুর রহমান সুহেল পুলিশ প্রতিনিধি ছাড়াই হচ্ছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্মে তটস্থ প্রতিবেশীরা ইছবর-আকবর চক্র দাপট দেখিয়ে কেড়ে নিচ্ছেন স্বজনদের বাড়ি-জমি
চিকিৎসকের অবহেলায় প্রাণ গেল শিশুর

চিকিৎসকের অবহেলায় প্রাণ গেল শিশুর

ঠান্ডা ও পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তিন মাসের শিশু মুসাফিরকে। হঠাৎ অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মুসাফিরের স্বজন ও দায়িত্বরত নার্স একাধিকবার ডাকলেও চিকিৎসক আসেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

শরীফ উর রহমান নামে ওই চিকিৎসক নার্সকে পরামর্শ দিয়েছিলেন শিশুটির অক্সিজেন খুলে তার কাছে নিয়ে যেতে। তবে শিশু মুসাফিরের অবস্থা শোচনীয় হওয়ায় নার্স অক্সিজেন খুলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবু রোগীর কাছে যাননি ওই চিকিৎসক। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে মৃত্যু হয় শিশু মুসাফিরের।

 

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে।

 

নিহত মুসাফির (৩ মাস) শরীয়তপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের চরপালং গ্রামের রাজিব শেখ ও রুবিনা বেগম দম্পতির ছেলে।

 

স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত দুদিন ধরে পেটে গ্যাস ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে ভুগছিল মুসাফির। বুধবার দুপুরে শিশুটিকে নিয়ে আড়াইশ শয্যা শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে যান মা রুবিনা বেগম। এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছিলেন চিকিৎসক শরীফ-উর রহমান। তাকে শিশুটির অসুস্থতার বিষয়টি জানানো হলে তরল জাতীয় একটি ওষুধ লিখে দেন তিনি। ওষুধটি খাওয়ানোর পর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশু মুসাফির। এ সময় বেশ কয়েকবার বমিও করে সে। অবস্থা খারাপ দেখে মা রুবিনা বেগম ও স্বজনরা জরুরি বিভাগে বেশ কয়েকবার চিকিৎসককে ডেকে আনতে যান। তবে চিকিৎসক শরীফ-উর রহমান বিষয়টি আমলে না নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে আসেননি।

 

শিশুটির অবস্থা খারাপ হলে কর্তব্যরত স্টাফ নার্স সীমা বৈদ্য প্রথমে ওয়ার্ডবয় ও শেষে আয়াকে পাঠান ডাক্তারকে ডাকতে। তবে সেসবেও কর্ণপাত করেননি চিকিৎসক শরীফ-উর রহমান। একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে মারা যায় শিশু মুসাফির।

 

মুসাফিরের মা রুবিনা বেগম বলেন, আমার মানিক যখন অনেক অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন আমি নিচে অনেকবার দৌড়ে ডাক্তারকে ডাকতে যাই। তিনি আমাকে ধমক দিয়ে উপরে পাঠিয়ে দিয়ে বলেন আমি আসতেছি। কিন্তু ডাক্তার আর আসেনি। আজ যদি আমার মানিককে চিকিৎসা দেওয়া হতো তা হলে ও বেঁচে থাকত।

 

বাবা রাজিব শেখ বলেন, ডাক্তারের অবহেলায় আমার বাচ্চা মারা গেছে। তাকে অনেকবার অনুরোধ করেছি, উনি আসেননি। আজ আমি ডাক্তারের জন্য সন্তানহারা হয়ে গেলাম। আমার বাচ্চার মতো আর কারও বাচ্চা যেন এভাবে চিকিৎসকের অবহেলায় মারা না যায়— এটিই আমার দাবি।

 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সীমা বৈদ্য বলেন, বাচ্চাকে প্রথমে আমি অক্সিজেন লাগিয়ে দিই। এর পর আমাকে বেশ কয়েকবার রোগীর লোক ডাকলে আমি বাচ্চাটাকে দেখে আসি। কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ডাক্তারকে ডাকতে আমার ওয়ার্ড বয়কে দুবার নিচে পাঠিয়েছি, ডাক্তার বলে বাচ্চাটার অক্সিজেন মাস্ক খুলে নিচে নিয়ে যেতে। বাচ্চাটার অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমি অক্সিজেন মাস্ক না খুলে আয়াকে দিয়ে পুনরায় ডাক্তারকে ডাকতে পাঠাই। কিন্তু তিনি শুধু একই কথা বলেন। একপর্যায়ে বাচ্চাটা মারা গেলে আমি নিচে গিয়ে ডাক্তারকে আর পাইনি। যখন বাচ্চাটির খারাপ অবস্থা ছিল তখন ডাক্তার এলে হয়তো বাচ্চাটা বেঁচে থাকত।

 

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ-উর রহমানকে তার মোবাইল ফোনে কল দিলে ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমন অভিযোগ সত্য নয়। কেউ আমাকে জরুরি বিভাগে ডাকতে আসেনি।

 

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার বলেন, আমি এরই মধ্যে এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। যদি ওই চিকিৎসকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু হয়, তা হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Comments are closed.




© All rights reserved © sylheteralo24.com
sylheteralo24.com