May 5, 2026, 6:11 pm

বিজ্ঞপ্তি :::
Welcome To Our Website...
তৃণমূলের ভরাডুবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ক্ষমতায় আসছে বিজেপি

তৃণমূলের ভরাডুবি, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ক্ষমতায় আসছে বিজেপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ধারণার চেয়েও বড় জয় পেতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে তারা দুই শতাধিক আসনে এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের লাগোয়া এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তার দল তৃণমূল কংগ্রেস শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৮১টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সংবাদ বিশ্লেষণ প্রোগ্রাম
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয়। তাতে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোট পড়ে, যা পুরো ভারতেই নজিরবিহীন। অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। ওই কেন্দ্রে ফের ভোট হবে ২১ মে। ফলে সোমবার প্রকাশ করা হবে ২৯৩ আসনের ফল।
৪৯ বছর পর কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার
এদিকে ১৫ বছর পর বাংলার মসনদে এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ ৪৯ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। অর্থাৎ, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গঠিত কংগ্রেস সরকার ১৯৭৭ পর্যন্ত ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হিসেবে কার্যকরী ছিল। সিদ্ধার্থ শংকরের কংগ্রেস সরকারের পতনের পর যুক্তফ্রন্ট বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদী শাসন। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর অবশেষে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হিসেবে ক্ষমতায় এলো বিজেপি।
বেসরকারি ফলাফল
ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাত পৌনে ১০টা নাগাদ বেসরকারি ফলাফলে বিজেপি ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস বিজয়ী হয়েছে ৫৯টি আসনে। যে ৬১টি আসনে ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বিজেপি ৪১টি আর তৃণমূল কংগ্রেস ২০টি এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস আর সিপিআই (এম) বিজয়ী হয়েছে দুইটি করে আসনে। অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া সেক্যুলার ফ্রন্ট বিজয়ী হয়েছে একটি আসনে।
মোদি বললেন, পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে
ছাব্বিশে বাংলা দখলে মরিয়া ছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী প্রচারে এসে বারবার বলেছিলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা কাজ চায়, সম্মান চায়। তাই এবার বাংলায় পদ্ম ফুটবেই। জনসভা থেকেই মোদি দাবি করেছিলেন, বাংলার কয়েকটি জেলায় একটি আসনও দখল করতে পারবে না তৃণমূল। সোমবার ফলাফল প্রকাশিত হতেই দেখা গেল, মোদির কথাই মিলে গেছে। বাংলার ৯টি জেলায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল ঘাসফুল শিবির।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ফল অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। বিজেপির এই ফল নিয়ে একটি বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।’রাজনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রণাম জানাই। জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব, যা সমাজের সকল স্তরের মানুষের সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।’
বিজেপির জয় অনৈতিক বলছে মমতা
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন চুরি করেছে। বিজেপি জালিয়াতি করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপি কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমরা বারবার এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু কেউ শোনেনি।’
মমতা বলেন, ‘বিজেপির এই জয় অনৈতিক। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যোগসাজশে নির্বাচন কমিশন যা করেছে তা পুরোপুরি অনৈতিক। তারা জোরপূর্বক এসআইআর পরিচালনা করেছে। তারা অত্যাচার চালিয়েছে। তারা কাউন্টিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার করেছে। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।’
বিজয় উল্লাস গেরুয়া কর্মীদের
এদিকে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হতেই কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। দেড় দশক আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের। সেই সিঙ্গুরেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটিয়ে উত্থান হল বিজেপির। এই জয়ে বুলডোজার নিয়ে অভিনবভাবে আনন্দে মাতলেন মালদহের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একাধিক ডিজে বাজনা এবং চলছে আবির খেলা। এমনকি দলটির রাজ্যসভার সংসদ সদস্যহর্ষবর্ধন শ্রিংলাকেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়।
নন্দীগ্রাম আসনে জয়ী শুভেন্দু ,ভবানীপুরেও এগিয়ে
বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ কলকতার সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে এই আসনের ভোট গণনা চলছে। দিনের শুরুর দিকে গণনায় এগিয়ে ছিলেন মমতা। কিন্তু বিকেলে কমাতে থাকে ব্যবধান।
এই পরিস্থিতিতে গণনাকেন্দ্র ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মমতা ও শুভেন্দু দুজনই গণনাকেন্দ্রে হাজির হন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দুই প্রার্থীরই মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে।
ভোটগণনার একপর্যায়ের সন্ধ্যার পর শুভেন্দু মমতার চেয়ে বেশি ভোটে এগিয়ে যান। এ সময় মমতা ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটায় শুভেন্দু তার প্রতিদ্বন্দ্বী মমতার চেয়ে ২৯৫৬ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ইতোমধ্যেই নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি হারিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করকে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এই দুইটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 + 19 =

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved © sylheteralo24.com
sylheteralo24.com