ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : ধু-ধু বালু চর। চিক চিক কণার বুকে সবুজ গাছ। গাছের মুঠি ধরে টান দিলেই ওঠে আসে থোকা থোকা বাদাম। চরের বালুর নিচেই ফলে বাদাম। যার রং সোনালি। যেন বালুর নীচে লুকানো মুঠো ভরা সাদা সোনা। এক সময় বালুর আস্তরণ পড়া চরের জমি গুলো প্রায় অনাবাদি পড়ে থাকত। বালু মাটিতে তেমন ফসল চাষ হতো না। কিন্তু সেই জমিতেই গত কয়েক বছর ধরে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর চরাঞ্চলের জমিতে পুরোদমে চলছে এ বাদাম চাষ।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৪৬ বছর আগে যমুনা নদীর ভাঙনে ১৪টি গ্রামের বসভিটা ও আবাদি জমি বিলীন হয়। ফলে পথে বসে হাজার হাজার সমৃদ্ধ কৃষক। ২৫ বছর পর যমুনা বুকে জাগতে শুরু করে নতুন নতুন চর। প্রথম দিকে চরের কৃষকদের কোন কাজেই আসতো না। কিন্তু ১০-১২ বছর আগে কয়েক জন চাষি চরের জমিতে স্বল্প পরিসরে চিনা বাদামের আবাদ শুরু করেন।
পুকুরিয়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক জানান, নতুন জেগে ওঠা চরের উপরিভাগে অধিক পরিমাণ বালু থাকায় সেসব জমিতে অন্য কোনো ফসল হয় না। এ কারণে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসে সেসব জমিতে বাদাম রোপণ করা হয়। কাঁচা বাদাম কেনার পর তার ছাল ছড়িয়ে ভেতরের কোয়া (বীজ) রোপণ করা হয়। তবে এজন্য জমিতে বাড়তি কোনো খরচের প্রয়োজন পড়ে না।
শুধু জমিতে লাঙ্গল দিয়ে লাইন টেনে তার ভেতর এক ফুট দুরত্বে বাদামের বীজ বালুমাটি দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। এরপর আর কোনো কাজ নেই। আপনাতেই চারা গজিয়ে সেখানে বাদাম ফলে। প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে তার খরচ হয় সর্বোচ্চ দেড় হাজার টাকা। আর সেখানে ফলন পাওয়া যায় ৭ থেকে ৮ মণ।
Leave a Reply