June 21, 2026, 4:10 pm

বিজ্ঞপ্তি :::
Welcome To Our Website...
শিরোনাম ::
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহঃ) মাজারের উন্নয়নে অর্থ প্রদান করলেন দৈনিক যুগান্তরের ষ্টাফ রিপোর্টার হাবিব সরোয়ার আজাদ মোগলাবাজার থানায় নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ১ মাস ফাইলচাপা এসএমপি কমিশনার বরাবরে আবেদনের খবর পেয়ে সাথে সাথে আইও বদল নির্মল সমীরণে আমাদের একদিন চঞ্চল মাহমুদ ফুলর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাব, সিলেট’র নতুন সদস্য হতে আগ্রহীদের ফরম সংগ্রহের আহবান যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবুল মিয়ার দেশে ফেরার আনন্দে মিলনমেলা কদমতলী ওভার ব্রিজ: প্রতিদিনের ভোগান্তি, সময়ের অপচয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ফুটপাত ভাড়া দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে অসাধু একটি চক্র কলম, সেবা আর দায়িত্বের আরেক নাম – ছাদিকুর রহমান সুহেল পুলিশ প্রতিনিধি ছাড়াই হচ্ছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা
এমপিপুত্রের গাড়িচাপায় মৃত্যু: অবশেষে ২০ লাখ টাকায় আপস

এমপিপুত্রের গাড়িচাপায় মৃত্যু: অবশেষে ২০ লাখ টাকায় আপস

 সিলেটের আলো:  নোয়াখালী-৪ আসনের এমপিপুত্র শাবাব চৌধুরী। ফাইল ছবি রাজধানীর মহাখালীর ফ্লাইওভারে গাড়িচাপায় পথচারী সেলিম ব্যাপারী নিহত হওয়ার ঘটনায় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলে নেয়ার প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন নিহতের পরিবার।

এছাড়া প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। নিহত সেলিম ব্যাপারীর (৫৫) বোনের স্বামী আবদুল আলিম বলেন, সেলিমের স্ত্রী চায়না ব্যাপারীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। আর প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন এমপি সাহেব। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন বলেছেন।

আবদুল আলিম বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর ডিওএইচএসে নায়ার প্রোপার্টিজের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে ওই আপস বৈঠক হয়। সেলিম ব্যাপারীর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি এমপি একরামুল করিমের পক্ষে কয়েকজন সেখানে ছিলেন।

তিনি বলেন, এমপির পক্ষে যারা এসেছিলেন, তারা আমাদের ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন। পরে এমপি সাহেবের সঙ্গেও আমরা দেখা করেছি। ওই মামলাটি এখন আমরা তুলে নেব।

এরআগে শুক্রবার টাকার বিনিময়ে আপসের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম যুগান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়ে তো আমি কিছু জানি না, এটা আপনারাই জানেন, আই ডোন্ট নো। টাকার বিনিময়ে হোক আর যাই হোক, যেহেতু দেশে আইন আছে, আইনের মাধ্যমে যেটা হয় সেটাই দেখব।’

যুগান্তরের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আইন কি জিনিস সেটা আপনারা বোঝেন, আপনাদের যুগান্তর বোঝে? আপনারা কি জানেন এই এক্সিডেন্ট আইনে কী হয়?’

সেলিম ব্যাপারী যেখানে চাকরি করতেন, সেই নাওয়ার প্রোপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান হোসেন বলেন, এমপি এমরামু ল করিম চৌধুরী বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ফোন করে ‘সমঝোতার প্রস্তাব’ দেন।

ওইদিন ইমরান হোসেন বলেন, এমপি চান, নিহতের পরিবারের পাশে থাকার বিনিময়ে তারা কাফরুল থানায় করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবে। ফোনে কথা বলার পর এমপি সাহেব আমার বারিধারার অফিসে লোক পাঠিয়েছিলেন সমঝোতার বিষয়ে আলোচনার জন্য।

তিনি জানান, এমপি বা তার পরিবার বা পুলিশের কেউ ওই বৈঠকে ছিল না। তবে নিহত সেলিম ব্যাপারীর স্ত্রী, মেয়ে, মেয়ের জামাইসহ কয়েকজন আত্মীয় সেখানে ছিলেন।

ইমরান বলেন, সেলিম ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার পরিবার যেন বাঁচতে পারে সেজন্য ৩০ লাখ টাকার একটা ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে এমপি সাহেবকে অনুরোধ করেছি।

সেলিমের পরিবার সমঝোতায় রাজি কি না জানতে চাইলে ইমরান বলেন, টাকা পয়সা দিয়ে তো জীবনের দাম হবে না। আবার মামলা চালিয়েই বা কী হবে? পরিবারটির দিকে তাকিয়েই মূলত এমপি সাহেবের সমঝোতার প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছি। এমপি সাহেব কথা দিয়েছেন, দু-একদিনের মধ্যে এর মীমাংসা করবেন। তার প্রতি আমরা আস্থা রেখেছি।

নিহত সেলিম ব্যাপারী দুই যুগের বেশি সময় ধরে নাওয়ার প্রোপার্টিজের গাড়িচালক হিসেবে চাকরি করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি নিহত হন।

এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বেপরোয়া গতিতে আসা গাড়িটি প্রথমে ফ্লাইওভারে এক পথচারী পায়ের ওপর তুলে দেয়। তিনি (পথচারী) ওই গাড়ির বাম্পার ধরে ফেলেন। গাড়িটি ব্যাক গিয়ারে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। গতি বাড়িয়ে তিনি আবারও সামনের দিকে এগিয়ে যান। ওই পথচারী ছিটকে ফ্লাইওভারের গার্ডারে গিয়ে পড়েন। মুহূর্তেই মাথা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ওই পথচারীর। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ঘটনার পর তিনিসহ কয়েকজন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারে করে ওই গাড়ির পিছু নেন। গাড়িটি ন্যাম ভবনের সামনে গিয়ে থামে। এ সময় এমপিপুত্র শাবাবের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। ঘটনার কথা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন শাবাব। তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে মনে হয়েছে।

তবে শাবাবের মায়ের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তাদের একজন ড্রাইভার, শাবাব নয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুযায়ী, ঘাতক গাড়িটি শাবাবের মা কামরুন নাহার শিউলির নামে নিবন্ধিত। তিনি কবিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান।

ওই ঘটনায় কাফরুল থানায় গাড়ির নম্বর উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত সেলিমের মেয়ের জামাই আরিফ ভূঁইয়া।

তবে ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও অভিযুক্ত শাবাব চৌধুরীকে গ্রেফতার ও ঘাতক গাড়িটি জব্দে কোনো অগ্রগতি ছিল না পুলিশের।


Comments are closed.




© All rights reserved © sylheteralo24.com
sylheteralo24.com