June 21, 2026, 5:25 am

বিজ্ঞপ্তি :::
Welcome To Our Website...
শিরোনাম ::
মোগলাবাজার থানায় নির্যাতিত নারীর অভিযোগ ১ মাস ফাইলচাপা এসএমপি কমিশনার বরাবরে আবেদনের খবর পেয়ে সাথে সাথে আইও বদল নির্মল সমীরণে আমাদের একদিন চঞ্চল মাহমুদ ফুলর দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাব, সিলেট’র নতুন সদস্য হতে আগ্রহীদের ফরম সংগ্রহের আহবান যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাবুল মিয়ার দেশে ফেরার আনন্দে মিলনমেলা কদমতলী ওভার ব্রিজ: প্রতিদিনের ভোগান্তি, সময়ের অপচয় বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ সিলেট বিভাগীয় জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ফুটপাত ভাড়া দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করছে অসাধু একটি চক্র কলম, সেবা আর দায়িত্বের আরেক নাম – ছাদিকুর রহমান সুহেল পুলিশ প্রতিনিধি ছাড়াই হচ্ছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর দৌরাত্মে তটস্থ প্রতিবেশীরা ইছবর-আকবর চক্র দাপট দেখিয়ে কেড়ে নিচ্ছেন স্বজনদের বাড়ি-জমি
সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ৪ দিনের রিমান্ডে

সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ৪ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে প্রহসনের নির্বাচন দেওয়ার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টার দিকে তাকে আদালতে আনা হয়। এসময় তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে রোববার (২২ জুন) মামলা করেছে বিএনপি। মামলায় মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সালাহউদ্দিন খান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০০৯ সালে তৎকালীন সামরিক শাসকদের সহায়তায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবৈধভাবে আওয়ামী লীগের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তা পাকা-পোক্ত করার জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে সংসদ নির্বাচনী পদ্ধতি চালু ছিল তা বাতিল করান।
২০১৪ সালে শেখ হাসিনাসহ তার সরকার অবৈধভাবে শপথ নেওয়ার পর অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে তিনিসহ তার মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডাররা বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতা-কর্মীদের অপহরণ, গুম, গুরুতর জখম, হত্যা ও বিভিন্ন উপায়ে নির্যাতন শুরু করে। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
২০১৮ সালে পুনরায় সংসদ সদস্যদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার মাধ্যমে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দল তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদাসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের অবৈধ সরকারের কাছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি ও একটি সুষ্ঠু নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানায় এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে থাকে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা অঙ্গীকার করেন যে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার, তাই তিনি করবেন। তার এই আশ্বাসে বিএনপিসহ সব দল ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপিসহ বিভিন্ন দল মিলে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়। নির্বাচন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি সহ ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে গেলে অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের বাধার সম্মুখীন হয়।
বিএনপিসহ ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রচারণায় বের হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের ক্যাডারদের দ্বারা আক্রমণের শিকার হন, গুরুতর জখম হন, গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং ভোটের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়। নির্বাচনে দলীয় সমর্থক ও নেতা-কর্মীরা মাঠে নামলে তাদের উপরও আক্রমণ, গুরুতর জখম, হত্যা, অপহরণ ও গুম শুরু হয়। একই কৌশলে সারা বাংলাদেশে মিথ্যা ও গায়েবী মামলা তৈরি করে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন এবং বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করা হয়। কোনো প্রকারেই ভোট প্রচারণায় বের হতে না পারায় বিএনপি ও ঐক্য ফ্রন্ট নির্বাচন পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য এবং এসব ঘটনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে নুরুল হুদার কাছে আবেদন করে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় যে, নুরুল হুদাসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও সেই সময় কোনো প্রকার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
বাংলাদেশ সংবিধানের ৭(এ) এর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে কেবল এই সংবিধানের অধীনে ও কর্তৃত্ব দ্বারা কার্যকর করা হবে।’ এর অর্থ হলো রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, তাদের ক্ষমতাই সংবিধানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। অথচ এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার মিলে সম্পূর্ণভাবে জনগণের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে সংবিধানের পরিপন্থী কাজ করেছে এবং নির্বাচন সচিব ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলে এসব ঘটনায় কোনো প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এবং নির্বাচনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনেননি। তৎকালীন অবৈধ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনাসহ নির্বাচন কমিশনাররা পূর্ণ সহায়তা করে অবৈধভাবে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচন সমাপ্ত করার পরিকল্পনা করেন।


Comments are closed.




© All rights reserved © sylheteralo24.com
sylheteralo24.com